দীর্ঘ ১৮ বছরের প্রতীক্ষার অবসান। মাগুরার সংকোচখালী গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত পবন মোল্লা হত্যা মামলায় অবশেষে রায় দিয়েছেন আদালত। চাঞ্চল্যকর এ মামলায় ৬ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া মামলার আরও দুই আসামির একজনকে ২ বছর এবং অপরজনকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আব্দুল জলিল, লিয়াকত আলী, নওশের মোল্লা, হালিম মোল্লা, সাবু শেখ ও জহুর মোল্লা। এদের মধ্যে আব্দুল জলিল ও তার ছেলে লিয়াকত এবং নওশের একই পরিবারের সদস্য। যা এই ঘটনার পারিবারিক ও সামাজিক জটিলতাকে আরও গভীর করেছে। এছাড়া আকবর শেখকে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং সিদ্দিককে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বাকি আসামিদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) মাগুরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. নাসির উদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ২৯ ডিসেম্বর সকালে মাগুরা সদর উপজেলার সংকোচখালী গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনায় নির্মমভাবে প্রাণ হারান পবন মোল্লা। ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ২৪ জনকে আসামি করে দায়ের করা হয় হত্যা মামলা। বিচার চলাকালে মামলার বাদী ও তিন আসামির মৃত্যু হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত ৮ জনের বিরুদ্ধে রায় দেন, যার মধ্যে বাবা-ছেলেসহ ৬ জনকে দেয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, দীর্ঘদিন পর হলেও এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে রায়ে ভিন্ন সুর শোনা গেছে আসামিপক্ষের স্বজনদের কণ্ঠে। দণ্ডপ্রাপ্ত নওশের মোল্লার ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এটি একটি গ্রাম্য চক্রান্তের শিকার হয়ে করা মামলা। আমরা ন্যায়বিচার পাইনি। উচ্চ আদালতে আপিল করব। অন্যান্য আসামিদের স্বজনরাও একই অভিযোগ তুলে বলেন, মিথ্যা মামলায় আমাদের প্রিয়জনদের সাজা দেয়া হয়েছে।
একদিকে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ন্যায়বিচারের স্বস্তি অন্যদিকে স্বজন হারানোর বেদনা আর রায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ সব মিলিয়ে এ মামলার রায় নতুন করে আলোড়ন তুলেছে।
খুলনা গেজেট/এএজে

